সহীহ হাদীসের আলোকে ধাপে ধাপে গোসল করার পদ্ধতি শিখুন, যার মধ্যে রয়েছে ফরয বিষয়সমূহ, সুন্নাহ আমলসমূহ এবং সাধারণ ভুলগুলো যা এড়িয়ে চলা উচিত।
সমস্ত পরিপূর্ণ প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আর আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
গোসল হলো ইসলামে নির্ধারিত পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতি, যা বড় অপবিত্রতা (জানাবাত) দূর করার জন্য করা হয়। সহবাস, বীর্যপাত, ঋতুস্রাব শেষ হওয়া, নিফাস শেষ হওয়া এবং অনেক আলেমের মতে ইসলাম গ্রহণ করার পর গোসল ফরয হয়।
পবিত্রতা সালাত এবং অন্যান্য বহু ইবাদতের শুদ্ধতার শর্ত। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুযায়ী গোসল করার সঠিক পদ্ধতি শেখা।
গোসলের ফরয বিষয়সমূহ
গোসল শুদ্ধ হওয়ার জন্য দুটি মৌলিক বিষয় পূরণ করতে হবে:
এই দুটি শর্ত পূরণ হলে গোসল শুদ্ধ হবে। তবে সুন্নাহ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতিতে গোসল করা অধিক পরিপূর্ণ এবং সেটিই রাসূল ﷺ-এর অনুসৃত পদ্ধতি।
সুন্নাহ অনুযায়ী গোসল করার পদ্ধতি
নিম্নোক্ত পদ্ধতি আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এবং মায়মূনা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর সহীহ বর্ণনার উপর ভিত্তি করে প্রণীত:
১. নিয়ত করা
মনে মনে জানাবাত, ঋতুস্রাব, নিফাস বা গোসল ফরয হওয়ার অন্য কোনো কারণ থেকে পবিত্র হওয়ার নিয়ত করবে। নিয়তের স্থান হলো অন্তর; এটি মুখে উচ্চারণ করতে হয় না।
২. “বিসমিল্লাহ” বলা
আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করবে, কারণ পবিত্রতা অর্জনের কাজের পূর্বে এটি বলা সুন্নাহ।
৩. তিনবার হাত ধোয়া
পানিতে হাত দেওয়ার আগে অথবা গোসলের অন্যান্য কাজ শুরু করার আগে উভয় হাত ভালোভাবে ধুয়ে নেবে।
৪. লজ্জাস্থান ধোয়া
লজ্জাস্থানে থাকা নাপাকি বা বীর্য ইত্যাদির চিহ্ন পরিষ্কার করবে।
৫. অযু করা
সালাতের জন্য যেভাবে অযু করা হয়, সেভাবে অযু করবে। কিছু বর্ণনায় এসেছে যে, যদি এমন স্থানে গোসল করা হয় যেখানে পানি জমে থাকে, তাহলে পা ধোয়া গোসলের শেষ পর্যন্ত বিলম্ব করা যেতে পারে।
৬. মাথায় তিনবার পানি ঢালা
মাথায় তিনবার পানি ঢালবে এবং নিশ্চিত করবে যেন চুলের গোড়া ও মাথার ত্বকে পানি পৌঁছে যায়।
৭. পুরো শরীর ধোয়া
শরীরের বাকি অংশ ভালোভাবে ধুয়ে নেবে এবং নিশ্চিত করবে যেন শরীরের প্রতিটি স্থানে পানি পৌঁছে যায়। সুন্নাহ অনুযায়ী প্রথমে ডান পাশ, তারপর বাম পাশ ধোবে।
বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে এমন স্থানগুলোর প্রতি, যেগুলো মানুষ প্রায়ই বাদ দিয়ে ফেলে:
৮. পা ধোয়া (যদি অযুর সময় না ধোয়া হয়ে থাকে)
যদি অযুর সময় পা ধোয়া বিলম্ব করা হয়ে থাকে, তাহলে গোসলের শেষে পা ধুয়ে নিতে হবে।
গোসলের পর কি অযু করতে হবে?
যদি কেউ সুন্নাহ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ গোসল করে এবং তাতে অযুও অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে সালাতের আগে পুনরায় অযু করার প্রয়োজন নেই, যতক্ষণ না তার অযু ভঙ্গ হয়।
আর যদি কেউ পবিত্রতার নিয়তে শুদ্ধ গোসল করে এবং গোসলের সময় অযু ভঙ্গকারী কোনো বিষয় না ঘটে, তাহলে অনেক আলেমের মতে সেই গোসলই সালাতের জন্য যথেষ্ট।
নারীদের কি গোসলের জন্য চুলের বেণী খুলতে হবে?
যদি পানি চুলের গোড়া ও মাথার ত্বকে পৌঁছে যায়, তাহলে জানাবাতের গোসলের সময় শক্ত করে বাঁধা বেণী খুলতে হবে না।
গোসলের সময় সাধারণ ভুলসমূহ
সারসংক্ষেপে, সুন্নাহ অনুযায়ী গোসলের পদ্ধতি হলো: নিয়ত করা, হাত ধোয়া, লজ্জাস্থান পরিষ্কার করা, অযু করা, মাথায় তিনবার পানি ঢালা, পুরো শরীর ভালোভাবে ধোয়া এবং নিশ্চিত করা যে শরীরের কোনো অংশ শুকনা না থাকে। এটাই ছিল রাসূল ﷺ-এর পদ্ধতি এবং পবিত্রতা অর্জনের সর্বাধিক পরিপূর্ণ উপায়।
আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
উত্তরটি পড়ুন: English | Arabic | Bangla | Urdu | Hindi | Indonesian | Turkish | French | Spanish | Swahili