রোজা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ করা যায় কি? ইসলামী বিধান ব্যাখ্যা

রোজা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ করার ইসলামী বিধান জানুন। ইবনে বায ও ইবনে উসাইমীনের মত অনুযায়ী কিছু গিলে না ফেললে তা জায়েজ।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল।


ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মুখের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে উৎসাহিত করা হয়েছে, এমনকি রোজা অবস্থায়ও। নবী ﷺ সুওয়াক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, যা বুঝায় যে মুখের যত্ন নেওয়া রোজা নষ্ট করে না।


১. রোজা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ করা যায় কি?


হ্যাঁ, রোজা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ করা জায়েজ। তবে রোজাদারকে খেয়াল রাখতে হবে যেন পানি বা টুথপেস্ট গিলে না ফেলে।

শায়খ ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

“রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট ব্যবহার করতে কোনো সমস্যা নেই, যতক্ষণ না সাবধানতা অবলম্বন করে যেন কিছু গিলে না ফেলা হয়।”

ফাতাওয়া ইবনে বায, ৪/২৪৭

এটা বুঝায় যে ব্রাশ করার কাজটি নিজে রোজা ভঙ্গ করে না; বরং বিপদ হলো কিছু গিলে ফেলার মধ্যে।


২. রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট ব্যবহার


টুথপেস্ট ব্যবহার করার অনুমতি আছে, কিন্তু আলিমরা সতর্কতা বলেন কারণ এর তীব্র স্বাদ ও ফেনা অনিচ্ছাকৃতভাবে গলায় চলে যেতে পারে।

শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

“রোজা অবস্থায় টুথব্রাশ ও টুথপেস্ট ব্যবহার করা জায়েজ, কিন্তু দিনের বেলায় তা এড়িয়ে চলা উত্তম, কারণ তা গলায় চলে যেতে পারে।”

আশ-শারহুল মুমতি‘, ৬/৪০৭-৪০৮

৩. রোজা অবস্থায় সুওয়াক ব্যবহার কি উত্তম?


হ্যাঁ। রোজা অবস্থায় সুওয়াক ব্যবহার উত্তম, কারণ এটি সহজ, নিরাপদ এবং সরাসরি সুন্নাতে উৎসাহিত।


নবী ﷺ বলেছেন:

“যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টের ভয় না করতাম, তাহলে আমি তাদের প্রতি নামাযে সুওয়াক ব্যবহারের আদেশ দিতাম।”

সহীহ বুখারী, ৮৮৭; সহীহ মুসলিম, ২৫২

৪. দাঁত ব্রাশ করলে কি রোজা ভেঙ্গে যায়?


দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভেঙ্গে যায় না, যতক্ষণ না কিছু গিলে ফেলা হয়—ইচ্ছাকৃতভাবে বা অসাবধানতাবশত।

  • কিছু না গিলে ব্রাশ করলে → রোজা বৈধ থাকে
  • টুথপেস্ট বা পানি গিলে ফেললে → রোজা নষ্ট হতে পারে

৫. উপসংহার


রোজা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ করা জায়েজ, কিন্তু কিছু গিলে না ফেলার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সুওয়াক ব্যবহার বা সাবধানে ব্রাশ করা উত্তম—যাতে স্বাস্থ্যবিধি বজায় থাকে আর রোজাও নিরাপদ থাকে।


আল্লাহ সর্বাধিক জানেন।


উত্তরটি পড়ুন: English | Arabic | Bangla | Urdu | Hindi | Indonesian | Turkish | French | Spanish | Swahili


আরও উত্তরসমূহ পড়ুন: 34, 2, 50