নারীরা মাসিকের সময় নামায পড়তে পারে কিনা—কুরআন ও সুন্নাহর প্রমাণ, আলিমদের ব্যাখ্যা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে নামায কাযা করতে হতে পারে—সহ ইসলামী বিধান সম্পর্কে জানুন।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
ইসলামী আইনে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো নারীর মাসিক চক্র এবং এর সাথে ইবাদতসমূহের সম্পর্কিত বিধান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলোর মধ্যে হলো—ঋতুস্রাব অস্থায়ীভাবে নারীদের থেকে নামাযের বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়।
ঋতুবতী নারীর নামায পড়া কি জায়েয?
ঋতুবতী নারীর জন্য সালাত (ফরয বা নফল নামায) আদায় করা অনুমোদিত নয়। যদি সে এ সময় নামায পড়ে, তবে তা বৈধ নয় এবং সে এর সওয়াব পায় না, কারণ পবিত্রতা সালাতের শুদ্ধতার শর্ত।
এটি স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত করে যে ঋতুকালে নামায ছেড়ে দিতে হবে এবং পবিত্রতা ফিরে না আসা পর্যন্ত তা আদায় করা যাবে না।
তাকে কি ছুটে যাওয়া নামায কাযা করতে হবে?
ঋতুবতী নারীকে ঋতুকালে ছুটে যাওয়া নামায কাযা করতে হয় না। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত এবং আলিমদের মধ্যে ঐকমত্যের বিষয়।
এই বর্ণনাটি স্পষ্ট প্রমাণ যে ঋতুস্রাবের কারণে ছুটে যাওয়া নামায কাযা করতে হয় না।
কখন নামায আবার ফরয হয়?
যখন রক্তপাত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং নারী পবিত্র হয় (গোসল করার মাধ্যমে), তখন আবার নামায ফরয হয়ে যায়।
তবে আলিমগণ সময়সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ উল্লেখ করেন: যদি নামাযের সময়ের মধ্যে এমন সময় পবিত্রতা ঘটে যে পরবর্তী নামাযের সময় শুরু হওয়ার আগে অন্তত এক রাক‘আত আদায় করার পর্যাপ্ত সময় থাকে, তবে সেই নামায তার উপর ফরয হয়ে যায়।
উদাহরণ ১ (সময়ের শুরু): যদি কোনো নারী মাগরিব শুরু হওয়ার পর ঋতুবতী হয়, কিন্তু তার আগে এক রাক‘আত পড়ার পর্যাপ্ত সময় ছিল, তবে তাকে পবিত্র হওয়ার পর মাগরিব কাযা করতে হবে।
উদাহরণ ২ (সময়ের শেষ): যদি সে ফজরের আগে এক রাক‘আত পড়ার পর্যাপ্ত সময় রেখে পবিত্র হয়, তবে তাকে ফজর আদায় করতে হবে।
যদি এক রাক‘আতের জন্য পর্যাপ্ত সময় না থাকে?
যদি নামাযের সময় শেষ হওয়ার বা শুরু হওয়ার আগে এক রাক‘আতের জন্য পর্যাপ্ত সময় না থাকে, তবে সেই নামায তার উপর ফরয নয়। এটি সুন্নাহ থেকে গৃহীত এবং ফুকাহাদের দ্বারা অনুধাবনকৃত নীতির উপর ভিত্তি করে।
বিধানের সারসংক্ষেপ
এই বিধান ইসলামী আইনের স্বচ্ছতা ও রহমত উভয়কে প্রতিফলিত করে, যা নিশ্চিত করে যে ইবাদত পবিত্র অবস্থায় সম্পাদিত হয় এবং একই সাথে স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কারণে ছুটে যাওয়া নামায কাযার বোঝা নারীদের উপর না চাপিয়ে দেয়।
আল্লাহ সর্বাধিক জানেন।
উত্তরটি পড়ুন: English | Arabic | Bangla | Urdu | Hindi | Indonesian | Turkish | French | Spanish | Swahili
আরও উত্তরসমূহ পড়ুন: 31