কুরআন, সহীহ সুন্নাহ এবং আহলুস-সুন্নাহর আলিমদের ব্যাখ্যার আলোকে শুদ্ধ সালাতের জন্য প্রয়োজনীয় নয়টি শর্ত সম্পর্কে জানুন।
সমস্ত পরিপূর্ণ প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমগ্র জগতের প্রতিপালক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
উসূলুল-ফিকহের পরিভাষায় “শর্ত” বলতে এমন বিষয়কে বোঝায়, যা ছাড়া কোনো কাজ শুদ্ধ হয় না। সুতরাং সালাত শুদ্ধ হওয়ার শর্তসমূহ হলো সেই বিষয়গুলো, যেগুলোর উপর সালাতের শুদ্ধতা নির্ভর করে। যদি এর কোনো একটি শর্ত নষ্ট হয়ে যায়, তবে সালাতও শুদ্ধ হবে না।
সালাত শুদ্ধ হওয়ার শর্তসমূহ:
১. সালাতের সময় শুরু হওয়া
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। সময় শুরু হওয়ার আগে আদায় করা সালাত শুদ্ধ নয়। এ বিষয়ে আলিমদের ঐকমত্য রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
“নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের উপর নির্ধারিত সময়ে ফরয করা হয়েছে।”
কুরআন, সূরা আন-নিসা ৪:১০৩
আল্লাহ তাআলা ফজরের কিরাআত এবং সালাতের সময়সমূহ সম্পর্কেও বলেন:
“সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম কর এবং ফজরের কুরআন পাঠও। নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন পাঠে উপস্থিতি থাকে।”
কুরআন, সূরা আল-ইসরা ১৭:৭৮
২. আওরাহ আবৃত করা
কোনো ব্যক্তি যদি আওরাহ খোলা রেখে সালাত আদায় করে, তবে তার সালাত শুদ্ধ হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:
“হে আদম সন্তান! প্রত্যেক সালাতের সময় তোমরা তোমাদের সৌন্দর্য গ্রহণ কর।”
কুরআন, সূরা আল-আ'রাফ ৭:৩১
আলিমগণ আওরাহকে নিম্নরূপ ব্যাখ্যা করেছেন:
- সর্বনিম্ন আওরাহ: ৭–১০ বছর বয়সী ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে শুধু লজ্জাস্থান।
- মধ্যম আওরাহ: ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষের ক্ষেত্রে নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত।
- পূর্ণ আওরাহ: প্রাপ্তবয়স্ক স্বাধীন নারীর সমগ্র শরীর, তবে মুখমণ্ডল ও হাত ব্যতীত। পা সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
৩. তাহারাত (পবিত্রতা)
- হাদাস (অপবিত্রতা) থেকে পবিত্রতা: যেখানে ওযু বা গোসল আবশ্যক, সেখানে তা ছাড়া সালাত শুদ্ধ হবে না।
- নাজাসাত (অপবিত্র বস্তু) থেকে পবিত্রতা: যদি শরীর, পোশাক বা সালাতের স্থানে নাপাকি আছে বলে জানা থাকে, তবে তা দূর না করলে সালাত শুদ্ধ হবে না।
উদাহরণ:
শরীর: যেকোনো নাপাকি থেকে মুক্ত থাকতে হবে.
পোশাক: সালাতের আগে হায়েজের রক্ত বা অন্য নাপাকি ধুয়ে ফেলতে হবে.
স্থান: সালাতের স্থান যেন প্রস্রাব বা অন্য কোনো নাপাকি থেকে পরিষ্কার থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে.
৪. কিবলামুখী হওয়া
সালাত অবশ্যই কিবলামুখী হয়ে আদায় করতে হবে:
“অতএব তুমি তোমার মুখমণ্ডল মাসজিদুল হারামের দিকে ফিরিয়ে নাও। আর তোমরা যেখানেই থাক, তোমাদের মুখমণ্ডল সেই দিকেই ফিরিয়ে নাও।”
কুরআন, সূরা আল-বাকারা ২:১৪৪
৫. নিয়ত
নিয়ত ছাড়া সালাত শুদ্ধ নয়:
“নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার নিয়ত সে করেছে।”
সহীহ বুখারী ১:১; উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদীস
৬. মুসলিম হওয়া
শুধুমাত্র মুসলিমের সালাত শুদ্ধ।
৭. সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া
ব্যক্তিকে বিবেকসম্পন্ন হতে হবে। পাগলামি সালাতকে অকার্যকর করে দেয়।
৮. তামীয (ভালো-মন্দ বোঝার সক্ষমতা)
তামীযের বয়সে পৌঁছানোর পরই সালাতের দায়িত্ব আসে।
৯. দৃশ্যমান নাপাকি দূর করা
অর্থাৎ শরীর, পোশাক এবং সালাতের স্থানকে নাপাকি থেকে পবিত্র রাখা।
উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে সালাত শুদ্ধ হওয়ার শর্ত মোট নয়টি: মুসলিম হওয়া, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া, তামীয থাকা, হাদাস থেকে পবিত্র হওয়া, নাপাকি দূর করা, আওরাহ আবৃত করা, সালাতের সময় শুরু হওয়া, কিবলামুখী হওয়া এবং সঠিক নিয়ত করা।
আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
উত্তরটি পড়ুন: English | Arabic | Bangla | Urdu | Hindi | Indonesian | Turkish | French | Spanish | Swahili
আরও উত্তরসমূহ পড়ুন: 45, 44, 30